যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ও প্রভাবশালী মার্কিন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সংগৃহীত তদন্ত নথিপত্র, যা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এসব নথিতে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তার সহযোগীদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে এই গোপন নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়। এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নথি প্রকাশে অনীহা দেখালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেন। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়। এসব নথিতে তার অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস উঠে এসেছে।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাসভবনে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের তদন্ত শুরু হয়। সে সময় একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে তিনি কঠোর শাস্তি এড়াতে সক্ষম হলেও যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
পরবর্তীতে প্রায় এক দশক পর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন পাচারের অভিযোগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার চলাকালীন অবস্থায় ২০১৯ সালে কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে, যা সরকারিভাবে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়।
তদন্তের সময় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, ইমেইল এবং তার বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে উদ্ধার করা দলিলই ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর মূল ভিত্তি।
এই নথি ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালের আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তার অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টেইন ও গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কয়েকটি ইমেইল প্রকাশ করেছেন, যেখানে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম পাওয়া যায়।
ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, এক ভুক্তভোগী ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের বাড়িতে সময় কাটিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ভুক্তভোগী ছিলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।
তবে গিফ্রে নিজেই মৃত্যুর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত হতে দেখেননি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এই ফাইল প্রকাশের মাধ্যমে আরও কত প্রভাবশালীর নাম সামনে আসে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
#আরএ

