ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রথমবারের মতো প্রাণহানির শিকার হয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, অভিযানে অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য স্প্লিন্টারের আঘাতে ও অন্যান্যভাবে সামান্য আহত হয়েছেন। তবে নিহত যোদ্ধাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি; নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম জানানো হবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এই বিধ্বংসী অভিযানের দ্বিতীয় দিনে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে।
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর রবিবারও ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য বর্তমান ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সম্পদগুলোর ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ লক্ষ্য করে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় রণতরীটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেটি এখনও তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাদের এই মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অথচ এখন পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরের অনেক নেতা এখন কংগ্রেসে জরুরি বিতর্কের দাবি তুলছেন এবং প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা জানতে চাচ্ছেন, এই সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে এবং আরও কত সেনা সদস্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।
এতসবের মধ্যেও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, অভিযান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং সফলভাবে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত নই, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।” ট্রাম্পের দাবি, এই হামলা না চালালে ইরান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলত। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই এবং তারা খামেনি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর।

