আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভ্যন্তরে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে বাহিনীটির নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যম কর্মীদের এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনয়নের লক্ষ্যে র্যাব বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীটির নাম এবং পোশাক বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সত্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু হঠাৎ র্যাব বাহিনীর নাম, পোশাক কেন বদল করা হচ্ছে তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
মূলত, র্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের কারণে বিগত সরকারের আমলে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র্যাব এবং বাহিনীটির সাত কর্মকর্তার ওপর আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তখন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে র্যাবের সুনামকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর র্যাব বাহিনীতে সংস্কার আনার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
সেই দাবি মোতাবেক, সাম্প্রতিক কালে র্যাব বাহিনীতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ হাতে নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন, অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা আধুনিকায়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় বাহিনীটি আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
#আরএ

