টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঘোষিত এই ইশতেহারে দুর্নীতি দমনে শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কার, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জামায়াত অঙ্গীকার করেছে, জনরায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করবে যেখানে ঘুষ-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না।
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াত বেশ কিছু আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ প্রবর্তন করা, যা নাগরিকের এনআইডি, টিআইএন এবং স্বাস্থ্যসেবার তথ্য ধারণ করবে। এর ফলে সরকারি সেবা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং অর্থ লোপাট বন্ধ হবে বলে মনে করে দলটি। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইসেন্সিং পদ্ধতি সহজীকরণ এবং সরকারি সব সেবা ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে ঘুষ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রশাসনিক সংস্কার। ইশতেহার অনুযায়ী:
- নিয়োগে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন: সরকারি সকল স্তরে নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে যাতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন: দুদককে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে যেকোনো পর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: দুর্নীতিবাজদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন করার কথা বলা হয়েছে।
- চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের ভূমিকায় জামায়াত উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তা বাস্তবায়নই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিগত দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনামলে লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জামায়াত অভিযোগ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা একটি ‘ইনসাফভিত্তিক’ সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, যেখানে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা হবে।
জামায়াত নেতারা দাবি করেন, অতীতে সরকারে থাকাকালীন তাদের মন্ত্রীবর্গ সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং কোনো প্রকার দুর্নীতির সঙ্গে লিপ্ত হননি। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে তারা কেবল শাসক হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে একটি স্বচ্ছ ও সুশাসিত বাংলাদেশ উপহার দেবেন।

