আমেরিকা ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক হামলার মুখে ইরান বর্তমানে ‘ডিফেন্সিভ মোড’ বা আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। এমএসএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, এই যুদ্ধ ইরানের পছন্দ নয়, বরং এটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিজেদের অধিকার এবং জনগণকে রক্ষা করার জন্য ইরান সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাভানচি আরও জানান যে, হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো ধরনের বার্তা বিনিময় বা যোগাযোগ হয়নি।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের তোলা পারমাণবিক অভিযোগগুলোকেও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাভানচি। উইটকফ দাবি করেছিলেন যে, ইরানি আলোচকরা আন্তর্জাতিক তদারকি এড়িয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন নিয়ে গর্ব করেছেন। এর জবাবে রাভানচি বলেন, “আমরা কোনো বড়াই করিনি, বরং আমরা আমাদের বৈজ্ঞানিক অর্জনগুলোর বর্ণনা দিয়েছিলাম মাত্র।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়বস্তুকে উইটকফ ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা মূলত বৈজ্ঞানিক সাফল্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইআরজিসি-র (IRGC) নৌ ও অ্যারোস্পেস ইউনিটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে বিশাল আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহের শুরু থেকেই চলা এই ব্যাপক পাল্টা আক্রমণের মুখে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে, তাতে ইরান নিজেকে রক্ষায় যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

