ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় তেহরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে কিউবা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিলা এই সংহতি প্রকাশ করেন। আলাপকালে দুই নেতা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ওপর চালানো এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে, যেকোনো দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতিসংঘের সনদকে সম্মান জানানো অপরিহার্য। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পারিলা স্পষ্ট করে বলেন যে, কিউবা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ন্যায়সঙ্গত অবস্থানের সমর্থক এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ তারা সমর্থন করে না।
টেলিফোন সংলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত কয়েক দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সর্বোচ্চ নেতার কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ইরানের মিনাভ অঞ্চলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ১৭৫ জনেরও বেশি কোমলমতি শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল, মসজিদ, কূটনৈতিক পুলিশ কেন্দ্র এবং নাগরিক সেবা কেন্দ্রেও সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আরাগচি এই আক্রমণগুলোকে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।
আরাগচি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জনগণের অবিচল সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করতে সক্ষম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বৈধ আত্মরক্ষার কাঠামোর মধ্যে থেকে যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের চূড়ান্ত এবং সিদ্ধান্তমূলক জবাব দিতে ইরান বদ্ধপরিকর। তেহরান ও হাভানার মধ্যে এই কূটনৈতিক আলাপ মূলত ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের প্রতি বাড়তে থাকা সহমর্মিতা ও কূটনৈতিক সংহতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

