বাংলাদেশে বিমান খাতে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি এয়ারলাইন্স, এভিয়েশন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানি এবং এয়ারপোর্ট সংশ্লিষ্ট নানা সেবাখাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
আকাশপথে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ খাতটি কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে বিমানে ক্যারিয়ার বলতে শুধু পাইলট বা কেবিন ক্রু নয়, এর পরিধি অনেক বিস্তৃত। পাইলট, কেবিন ক্রু, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাউন্ড সার্ভিস কর্মকর্তা, ফ্লাইট ডিসপ্যাচার, এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমার সার্ভিস ও কার্গো অপারেশন–সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক পেশাগত অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ রয়েছে এখানে।
সাধারণত, পাইলট হতে হলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা প্রয়োজন। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ফ্লাইং স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাইভেট ও কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স অর্জন করতে হয়। এটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হলেও পেশাগত মর্যাদা ও আয় তুলনামূলক বেশি।
পাশাপাশি, কেবিন ক্রু হতে হলে সাধারণত স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, নির্দিষ্ট উচ্চতা ও শারীরিক মানদণ্ড বহন করতে হয়। এয়ারলাইন্সগুলো নিজস্ব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করে।
এ ছাড়া, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বা এটিসি হতে হলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে দক্ষতা, তীক্ষ্ণ মনোযোগ এবং মানসিক দৃঢ়তা জরুরি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এ দিকে, এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স অর্জন করতে হয়, যা দেশে ও বিদেশে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
আদতে, বিমান খাতে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি, টেকনিক্যাল ও ম্যানুয়াল কারিগরি বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগের কারণে ইংরেজি ব্যবহার অপরিহার্য। শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, চাপের মধ্যে কাজ করার সক্ষমতা এবং টিমওয়ার্কের মতো দক্ষতাগুলোও এই খাতের মৌলিক চাহিদা।
অপর দিকে, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বিমান খাত অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় এগিয়ে। এ খাতে বেতন কাঠামো সাধারণত আকর্ষণীয় হয়ে থাকে, বিশেষ করে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ক্ষেত্রে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং কর্মক্ষেত্রে পেশাগত মর্যাদা এই খাতের বড় আকর্ষণ।
অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ভাতা, মেডিকেল সুবিধা, ভ্রমণ ছাড়, বিমা ও অবসর সুবিধাও যুক্ত থাকে এতে।
তবে বিমানের ক্যারিয়ারে চ্যালেঞ্জও কম নয়। অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, রাতের ফ্লাইট, শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকার বাস্তবতা মেনে নিতে হয়। প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে সামান্য ত্রুটিও ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব দিক বিবেচনায় বিমান খাতে ক্যারিয়ার গড়া মানে দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি পেশায় যুক্ত হওয়া। সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতি থাকলে এভিয়েশন খাত তরুণদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
#আরএ

