বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল রপ্তানি খাতগুলোর মধ্যে গার্মেন্টস শিল্প সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ বিশ্ব বাজারে “মেইড ইন বাংলাদেশ” লেবেল সর্বত্রই পরিচিত হচ্ছে এই খাতটির অভাবনীয় অগ্রযাত্রার সুবাদে।
এ কারণে, তৈরি পোশাকের রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এই শিল্পকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা ও প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
দেশের রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃহত্তম বাণিজ্যিক সংগঠন হলো বিজিএমইএ। বর্তমানে সংগঠনটির সাধারণ সদস্য হিসেবে প্রায় ৪,২০০টিরও বেশি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সদস্য তালিকায় মোট ৪২৪৮টি সদস্যকে (জেনারেল মেম্বার) দেখানো হয়েছে। এখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে বিজিএমইএতে নিবন্ধিত। এই সদস্য তালিকায় রয়েছে গোটা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাটা, সেলাই, নেটওয়ার্ক ও প্রস্তুতকারক গার্মেন্টস কোম্পানির বিবরণ।
আদতে, বিজিএমইএ-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ১২টি গার্মেন্টস সদস্য দিয়ে ১৯৮০-এর প্রারম্ভে। কিন্তু আজকের দিনে, তা দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রতীয়মান সংগঠনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
এর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৪০% প্রতিষ্ঠান মূলত নাইটওয়্যার ও সোয়েটার ঘরানার পোশাক প্রস্তুত করে থাকে। বাকি ৬০% প্রতিষ্ঠান বোনা বা ওভেন গার্মেন্টস উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত। বিজিএমইএ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ওভেন গার্মেন্টস রপ্তানির প্রায় ১০০% এবং সোয়েটার রপ্তানির ৯৫% এর বেশি অংক তৈরি করে থাকে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
তবে এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে বিজিএমইএ-তে নিবন্ধিত সব গার্মেন্টসই দেশের সক্রিয় উৎপাদনশীল গার্মেন্টস কারখানা নয়। কিছু কোম্পানি রপ্তানির অর্ডার বা কার্যক্রমের পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝে মাঝে এই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। কিংবা হয়ে যেতে পারে বন্ধও।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, গত চার দশকে বহু সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে এবং মোট প্রায় ৬,৮৮৫টি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপিত হলেও এর মধ্য অনেকগুলোই এখন বন্ধ।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প শুধু সংখ্যা দ্বারা নয়, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কর্মসংস্থান দিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে, এই খাতে কর্মরত প্রায় ৪ মিলিয়ন শ্রমিক রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ নারী। তাঁরা দেশের রপ্তানি ও অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের ১৫০-এরও বেশি দেশ এ রপ্তানি হয় এবং এটি দেশের জিডিপির বৃহত্তর অংশে অবদান রাখে।
বিজিএমইএ তালিকাভুক্ত হাজারো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৩এন ফ্যাশন, ৩এস ইন্টারন্যাশনাল, ফোর স্টার ফ্যাশনস, এবং ফোর ইউ ক্লথিং। এ ছাড়া, মেগা গার্মেন্টস, মেগা নিট কম্পোজিট, হোয়াইটেক্স গার্মেন্টস, মেনস ফ্যাশন, ডিপস অ্যাপারেলস এবং হামিদ ফ্যাশন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোর আওতায় পড়ে।
এ দিকে, সারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রিন ফ্যাক্টরির নজির গড়েছে দেশের গার্মেন্টস খাত। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের তথ্য মতে, ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সবুজ কারখনার সংখ্যা ছিল ২৭০টি। এর মধ্যে গোল্ড ক্যাটাগরিতে ছিল ১৩৭টি, প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে ১১৪, সিলভারে ১৫ এবং সার্টিফাইড ক্যাটাগরিতে চারটি কারখনা। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশ পথ দেখাচ্ছে।
#আরএ

