নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি | যশোরে সরকারি বরাদ্দ আসার আগেই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত এই অর্থের পুরোটাই আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকার একটি সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ হয়। কিন্তু প্রকল্পের অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই রাতের আঁধারে স্কুল মাঠে মাত্র কয়েকটি গাড়ি মাটি ফেলে সেটিকে শতাধিক গাড়ির কাজ হিসেবে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। শুধু কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোই নয়, মাটির দামও বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম অনুযায়ী এই প্রকল্পের সভাপতি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রিক্তা বেগম। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খোদ সভাপতিই এই প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। রিক্তা বেগম জানান, প্রকল্পের কোনো নথিতে তিনি স্বাক্ষর বা সিল দেননি। উল্টো ইউপি সদস্য মারুফ হাসান তাকে জোরপূর্বক নথিতে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রকল্পের সভাপতি রিক্তা বেগম আরও দাবি করেন, ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল ইসলাম এই অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। তবে মাহমুদ হাসান লিটন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ইয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “মাঠ সংস্কারের একটি প্রকল্প এসেছে যার সভাপতি রিক্তা বেগম। এখানে সভাপতির অজান্তে অন্য কারও টাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ জালিয়াতি বা অনিয়ম করার চেষ্টা করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী এই দুর্নীতির চেষ্টা তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

