ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট কড়া নাড়ছে দেশের দরজায়। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের সর্বত্র এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটের দিন অন্তত ১৮ বছর বয়স হওয়া সকলেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা সাপেক্ষে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে যাচাই করা হয়। এনআইডি‑এর মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রও নির্ধারিত হয়।
ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের Smart Election Management BD মোবাইল অ্যাপে নিজের ভোটার সিরিয়াল নম্বর, ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রের ঠিকানা, নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পারবেন ভোটাররা। গুগল প্লে বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে তথ্যগুলো বের করা সম্ভব। বাড়তি সুবিধা হিসেবে অ্যাপটিতে নির্বাচনী প্রতীক ও প্রার্থীদের শপথ‑নামাও দেখা যাবে। নির্বাচনের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে রিয়েল‑টাইম আপডেট এবং ফলাফল সম্পর্কিত কিছু ফিচার চালু থাকবে।
অ্যাপ ব্যবহারে অপারগ হলে, সরকারী টোল‑ফ্রি হেল্পলাইনে (৩৩৩) কল করা অথবা, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট কিংবা স্থানীয় উপজেলা/জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এই ধরণের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ভোট কেন্দ্রেও প্রিন্টেড ভোটার তালিকার মাধ্যমে তোমার সিরিয়াল নম্বর খুঁজে দিতে সাহায্য করা হবে।
ভোটের দিন নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। ভোট দিতে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার সিরিয়াল নম্বর এবং কেন্দ্রের তথ্য জেনে যেতে হবে। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা নির্দেশক চিহ্ন এঁকে দেবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট হতে সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি কালো‑সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য একটি গোলাপি ব্যালট সংগ্রহ করে গোপন কক্ষে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীর বিপরীতে মার্কার ওপর সিল মারবেন ভোটাররা। পাশাপাশি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর মধ্যকার যে কোনো একটিতে ভোট দেবেন তাঁরা। এরপর ভোটারদের কাগজদ্বয় নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
এ দিকে, সারাদেশের ভোট গ্রহণ একই সময়ে শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কেন্দ্রেই সঙ্গে সঙ্গে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রার্থীদের প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে এই গণনা করা হবে। একই দিনে দুটি আলাদা ব্যালট গণনার পরিকল্পনা থাকায় ফলাফল পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে এই নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবার।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন দেশের ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ভোটার।এদের মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৫১ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন নারী। রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন হিজড়া ভোটারও।
দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পৃথক পৃথক নির্বাচনী জোট গঠন করে লিপ্ত হয়েছে ব্যালট সংগ্রামে।
#আরএ

