রোজা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া আবশ্যক না হলেও এর ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক। তাই সুযোগ থাকলে সেহরি খাওয়া এবং এ সময়ের বরকত অর্জনের চেষ্টা করা মুসলমানদের জন্য উত্তম আমল হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
রমজান মাসে রোজা পালন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতগুলোর একটি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কিছু নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই রোজা আদায় করা হয়।
তবে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে – কেউ যদি সেহরি না খেয়ে রোজা রাখে, তাহলে কি তার রোজা আদায় হবে?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সেহরি খাওয়া রোজার জন্য ফরজ বা আবশ্যক নয়। কেউ যদি কোনো কারণে সেহরি খেতে না পারেন, তবুও তার রোজা সহিহ হবে এবং তা আদায় হয়ে যাবে।
কারণ রোজার মূল শর্ত হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানাহার ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকা এবং রোজার নিয়ত করা। সেহরি খাওয়া রোজার শর্ত না হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং এতে রয়েছে বিশেষ বরকত।
হাদিসে সেহরির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।”
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিস মুসলমানদের জন্য সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট করে। অর্থাৎ সেহরি শুধু শারীরিক শক্তি যোগানোর জন্যই নয়, বরং এটি একটি বরকতময় আমল হিসেবেও বিবেচিত।
ইসলামী ফিকহবিদরা উল্লেখ করেছেন, সেহরির সময় অল্প কিছু খেয়েও সেহরির সুন্নত আদায় করা যায়। পেট ভরে খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এক বা দুটি খেজুর, কিছু পানি, দুধ কিংবা হালকা কোনো খাবার খেলেও সেহরি সম্পন্ন হয়ে যায়। তাই সেহরির উদ্দেশ্য কেবল ভরপেট খাবার গ্রহণ নয়; বরং রোজার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া এবং এ সময়ের বরকত লাভ করা।
অনেক সময় ঘুমের কারণে কেউ সেহরির সময় জেগে উঠতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে সেহরি না খেয়েই রোজা রাখতে হয়। ইসলামী শরিয়তে এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
বরং সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত থাকলে রোজা আদায় হয়ে যাবে। তাই সেহরি মিস হয়ে গেলে রোজা ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সেহরী না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে? নবীজী যা বলেছেন
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুসলমানদের রোজার সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের রোজার পার্থক্য। একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “আহলে কিতাবদের রোজা ও আমাদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।”
অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য সেহরি খাওয়া একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা তাদের রোজাকে আলাদা পরিচয় দেয়। এছাড়া হাদিসে সেহরি বিলম্বে করার কথাও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ ফজরের সময়ের কাছাকাছি সেহরি করা উত্তম বলে বিবেচিত।
আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে সামান্য পানি বা অন্য কোনো হালকা খাবার গ্রহণ করলেও সেহরির ফজিলত পাওয়া যায় বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
রমজানের রোজা পালনের ক্ষেত্রে সেহরি তাই একদিকে সুন্নত, অন্যদিকে বরকতময় একটি আমল। এটি রোজাদারকে সারাদিনের ইবাদতের জন্য শারীরিক শক্তি জোগায় এবং নবী করিম (সা.)–এর সুন্নত অনুসরণের সুযোগ তৈরি করে। তবে কোনো কারণে সেহরি না খেতে পারলেও রোজা বৈধ থাকে—এ বিষয়টি ইসলামী বিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সুতরাং রোজা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া আবশ্যক না হলেও এর ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক। তাই সুযোগ থাকলে সেহরি খাওয়া এবং এ সময়ের বরকত অর্জনের চেষ্টা করা মুসলমানদের জন্য উত্তম আমল হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

