কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের ভট্টাচার্যপাড়া ও আমাটি-শিবপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কেবল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এই সভার মূল উপজীব্য ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ মাদক কারবারিদের কোণঠাসা করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সামগ্রিক চিত্র: শুক্রবার বিকেলে সুভাষ ডাক্তারের বাড়ি সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক ও জুয়া বিরোধী কমিটি, কিশোরগঞ্জ সদরের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম শামীম।
- সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
অন্তরালে যা আছে: বক্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মাদক ব্যবসা ও সেবন নির্মূল করতে হলে পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তারা মাদক কারবারিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততার একটি বড় উদাহরণ।
এরপর কী: অনুষ্ঠানের শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যক্রম আরও বেগবান করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও নজরদারি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন।
সারকথা: মাদকের বিরুদ্ধে এই সামাজিক আন্দোলন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ মাদকের কালো থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এই সভার মাধ্যমে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

