নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাংবাদিক ফোরামের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার নামে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিক চিত্র: গত ১১ জুলাই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হাতে নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনা ঘটে, যা শিক্ষার্থীরা মীমাংসা করলেও সাংবাদিক ফোরামের সদস্য আসাদুল্লাহ আল গালিব সেটির ভিডিও ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিওটি সম্পাদনা করে ক্লিকবেইট হিসেবে প্রকাশ করা হয়, যা ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবমাননার পথ তৈরি করে।
অন্তরালে যা আছে: অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটি প্রকাশের পর সাংবাদিক ফোরামের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিভিন্ন পোস্টে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন এবং প্রশাসন ভিডিওটি সরানোর নির্দেশ দিলেও তারা তাতে গড়িমসি করে।
- এমনকি পরবর্তী সময়ে নিজেদের সাফাই গাইতে গিয়ে সংগঠনটি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করে পুনরায় বিতর্কের জন্ম দেয়, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।
এরপর কী: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংখ্যায়: রবিবার (১৯ জুলাই) দুই দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।
- ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১১ জুলাই, যেখানে সাংবাদিক ফোরামের এক সদস্যের ভিডিও ধারণ ও তা ভুলভাবে প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
সারকথা: ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে প্রশাসন সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হলো, যা ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

