কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটিকে তিনি গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবেই দেখছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখা আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইঞ্জিনিয়ারিং বা পরিকল্পনার অভিযোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে ভোট হয়েছে এবং মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তাঁর ভাষায়, “মেকানিজম হয়েছে — এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পেরেছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা কথা বলা হলেও তিনি সেগুলো বিশদভাবে আলোচনায় আনতে চান না। বরং ভোটারদের অংশগ্রহণকেই তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জীবনে এই প্রথমবার তিনি নিজে ভোট দিয়েছেন। আগে ভোট কীভাবে দিতে হয়, তা কেবল শুনেই জানতেন; এবার সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতেও যেন এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে — এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী, চৌকস ও মেধাবী। তাঁদের প্রচেষ্টার কারণেই জেলায় স্বচ্ছ সাংবাদিকতার একটি ধারা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। কোন লেখা একজন মানুষকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করবে, আবার কোন লেখা তাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে — এ বিষয়টি লেখকদের মনে রাখতে হবে।
তাঁর মতে, সাংবাদিকদের কলম যেমন মানুষ গড়তে পারে, তেমনি মানুষকে ধ্বংসের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। তাই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যক্ষ খন্দকার কে এম আলী মহসিন। এ ছাড়া কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দারসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের খোলামেলা আলোচনা সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, কুষ্টিয়ার এই ইফতার মাহফিল শুধু সৌহার্দ্যের মিলনমেলাই নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে মত বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে। আমির হামজার বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা গেছে, যেখানে সমালোচনা ও সন্তুষ্টি — দুটো দিকই একসঙ্গে উঠে এসেছে।
#আরএ

