নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সামাজিক ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য এবং ‘থ্রি জিরো’ বা তিনটি শূন্যের ভিত্তিতে নতুন বিশ্ব গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন পথ নির্দেশ করছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর এই দর্শন বিশ্বনেতাদের জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিক চিত্র: ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’র অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাত্র ৫০০ ডলার থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ বর্তমানে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এবং এর পরিশোধের হার ৯৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
অন্তরালে যা আছে: কূটনৈতিক পরিভাষার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ড. ইউনূস। তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেন, শান্তির নামে যুদ্ধকে আড়াল করা উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শব্দের প্রকৃত অর্থ ও সততা বজায় রাখা জরুরি।
সংখ্যায়:
- বাংলাদেশে গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসার আওতায় বর্তমানে ১৫৩টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
- এছাড়া ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’র মূল লক্ষ্য হলো শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা।
এরপর কী: প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা পাবেন।
সংক্ষেপে: মানুষ কেবল চাকরি খোঁজার জন্য জন্মায়নি, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ও অন্যের কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা রাখে—এই দর্শনই ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ বিশ্ব গড়ার মূলমন্ত্র।

