পানাম নগর বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষ্য। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে অবস্থিত এই প্রাচীন নগরী একসময় ছিল বাংলার বাণিজ্য ও বিত্তশালীদের আবাসস্থল।
সময়ের পরতে পরতে হারিয়ে যাওয়া জীবনযাত্রা, স্থাপত্য আর নগরসভ্যতার চিহ্ন আজও পানাম নগরের ইট-পাথরে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
পানাম নগর কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে পানাম নগরে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সোনারগাঁগামী বাসে উঠে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বা সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের কাছে নামতে হবে।
সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে কয়েক মিনিটেই পানাম নগরের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে মোগরাপাড়া মোড় হয়ে সোনারগাঁয়ের দিকে প্রবেশ করলেই গন্তব্য।
পানাম নগরে যা দেখবেন
পানাম নগরের প্রধান আকর্ষণ এর সারিবদ্ধ প্রাচীন ভবনসমূহ। একটি দীর্ঘ সরু রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অর্ধশত ভবন একসময় ব্যবসায়ী ও জমিদারদের আবাস ছিল।
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক ধাঁচ, মোগল ও স্থানীয় স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি এসব দালান আজ জরাজীর্ণ হলেও ইতিহাসের ভার বহন করে চলছে। খিলানযুক্ত বারান্দা, খোদাই করা দরজা-জানালা, প্রশস্ত উঠান আর কারুকার্যময় নকশা দর্শনার্থীদের শত বছর আগের এক নগরজীবনে নিয়ে যায়। ভবনগুলোর দেয়ালে জমে থাকা শ্যাওলা, ভাঙা সিঁড়ি আর নীরবতা পানাম নগরকে এক ধরনের বিষণ্ন সৌন্দর্য দিয়েছে। ইতিহাস ও ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান।
পানাম নগরে কোথায় খাবেন?
পানাম নগরের ভেতরে খাবারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। খাবারের জন্য কাছাকাছি মোগরাপাড়া বাজার বা সোনারগাঁ এলাকায় যেতে হয়। সেখানে সাধারণ ভাতের হোটেল, হালকা নাশতার দোকান ও স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
অনেক দর্শনার্থী ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ী বা নারায়ণগঞ্জ শহরে খাবার খেয়ে থাকেন। ভ্রমণের সময় সঙ্গে পানি ও শুকনো খাবার রাখা সুবিধাজনক।
লোকেশনে কোথায় থাকবেন
পানাম নগর মূলত একদিনের ভ্রমণ গন্তব্য। এখানে রাতযাপনের ব্যবস্থা নেই। তবে দূর থেকে এলে নারায়ণগঞ্জ শহর বা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হোটেলে অবস্থান করা যায়।
নারায়ণগঞ্জে মাঝারি মানের হোটেল পাওয়া যায়, আর ঢাকায় সব ধরনের বাজেটের হোটেল সহজলভ্য। অবস্থান নির্ধারণে যাতায়াত সুবিধাই প্রধান বিবেচ্য।
ভ্রমণ সময় ও শিষ্টাচার
শীতকাল পানাম নগর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। গ্রীষ্মে রোদ ও বর্ষায় ভেজা রাস্তা ভ্রমণে কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। এটি একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হওয়ায় ভবনের ভেতরে ওঠা, দেয়ালে লেখা বা কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা নিষিদ্ধ।
নির্ধারিত পথ মেনে চলা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা প্রত্যাশিত। তাই ইতিহাসের নীরব ভাষা শুনতে, অতীতের নগরজীবন কল্পনা করতে এবং কালের ছাপ মেখে থাকা স্থাপত্য দেখতে পানাম নগর আজও এক অনন্য গন্তব্য।

