বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি হজরত শাহজালাল (র) মাজার। সিলেট শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই মাজার শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়। এটি বিশ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মিলনস্থল।
দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন মানত, দোয়া ও আত্মিক শান্তির খোঁজে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সিলেট যাতায়াতের জন্য বিমান, ট্রেন ও বাস — সব মাধ্যমই সহজলভ্য। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট সিলেটে যায়; সময় লাগে প্রায় ৫০ মিনিট।
ট্রেনে যেতে চাইলে উপবন, পারাবত বা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস জনপ্রিয়; সময় লাগে ৬–৭ ঘণ্টা। বাসে গেলে এসি ও নন-এসি সার্ভিসে ৭–৮ ঘণ্টায় সিলেট পৌঁছানো যায়।
সিলেট শহরে নেমে আম্বরখানা বা কদমতলী এলাকা থেকে রিকশা, সিএনজি বা অটোরিকশায় অল্প সময়েই শাহজালাল (র) মাজারে পৌঁছানো সম্ভব।
যা দেখবেন
মাজার চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সাদা গম্বুজ ও সবুজ আচ্ছাদনে ঘেরা মূল মাজার ভবন। হজরত শাহজালাল (র)-এর কবর শরিফ ছাড়াও এখানে তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।
মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। দর্শনার্থীদের জন্য সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অংশ হলো পুকুরে থাকা বিরল প্রজাতির বড় আকারের মাছ, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘গজার’ নামে পরিচিত। বিশ্বাসী দর্শনার্থীরা নীরবে দোয়া করেন, কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকেন। মাজার এলাকায় প্রবেশের সময় শালীন পোশাক ও শান্ত আচরণ বজায় রাখা জরুরি।
কোথায় খাবেন
মাজার এলাকার আশপাশে ছোট-বড় বহু খাবারের দোকান রয়েছে। এখানে ভাত, ডাল, সবজি ও মুরগির সাধারণ খাবার সহজে পাওয়া যায়। সিলেট শহরে গেলে খাবারের বিকল্প আরও বিস্তৃত হয়।
আম্বরখানা ও জিন্দাবাজার এলাকায় দেশি খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ ও ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ রয়েছে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা দিয়ে রান্না করা গরু বা মুরগির মাংস অনেকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। ভ্রমণের ফাঁকে চা-বাগানের চা পান করাও অনেকের অভ্যাস।
কোথায় থাকবেন
সিলেট শহরে সব বাজেটের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। শাহজালাল (র) মাজারের কাছাকাছি ও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় মাঝারি মানের হোটেল ও গেস্টহাউস সহজেই পাওয়া যায়। যারা তুলনামূলক উন্নত সুবিধা চান, তারা শহরের বড় হোটেলগুলো বেছে নেন।
ধর্মীয় সফরে আসা অনেক দর্শনার্থী একদিনেই মাজার জিয়ারত শেষ করে ফিরে যান। তবে আশপাশের পর্যটন স্পট ঘুরতে চাইলে অন্তত এক রাত থাকা সুবিধাজনক।
শাহজালাল (র) মাজারে আগত মানুষদের ভিড় কেবল সংখ্যার কারণে নয়, তাদের বিশ্বাসের ভারেই গম্ভীর। এখানে ইতিহাস, ধর্ম আর মানুষের আশা এক জায়গায় মিলিত হয়। এই মাজার তাই কেবল সিলেটের নয়, পুরো দেশের বিশ্বাসী দর্শনার্থীদের এক অভিন্ন পুণ্যভূমি।

