কক্সবাজারের পর্যটন মানচিত্রে সমুদ্রসৈকতই প্রধান আকর্ষণ হলেও পাহাড়, বন ও ঝরনার এক অনন্য সহাবস্থান দেখতে চাইলে নজর দিতে হয় হিমছড়ি-এর দিকে।
শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে কয়েক মিনিটের পথেই এখানে প্রকৃতি নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। পাহাড়ের বুক চিরে নামা ঝরনা, ঘন সবুজ বনভূমি আর নীল সমুদ্রের দূর দৃশ্য —মসব মিলিয়ে হিমছড়ি যেন কক্সবাজারের এক নীরব কিন্তু গভীর সৌন্দর্যের নাম।
হিমছড়ি মূলত পাহাড়ি বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক ঝরনার জন্য পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে ঝরনাটি প্রাণ ফিরে পায়, পাহাড় বেয়ে নেমে আসা জলরাশি চারপাশকে করে তোলে স্নিগ্ধ ও সতেজ।
শীত বা শুষ্ক মৌসুমে ঝরনার প্রবাহ কমে এলেও পাহাড়-জঙ্গল আর সমুদ্রের সম্মিলিত দৃশ্য পর্যটকদের টানে। বিশেষ করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে একদিকে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ি সারি — এই বৈপরীত্যই হিমছড়ির প্রকৃত শক্তি।
কিভাবে যাবেন
কক্সবাজার শহর থেকে হিমছড়ির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। শহরের কলাতলী বা লাবণী পয়েন্ট এলাকা থেকে অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা রিজার্ভ জিপে সহজেই পৌঁছানো যায়।
যারা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাবেন, তারা কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ধরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হলেই হিমছড়ির প্রবেশপথ দেখতে পাবেন। সড়ক যোগাযোগ ভালো, তবে বর্ষাকালে পাহাড়ি পথে চলাচলে সতর্কতা জরুরি।
যা দেখবেন
হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ পাহাড়ি ঝরনা। ঝরনার আশপাশে পাথুরে পথ, ছোট ছোট জলাধার আর সবুজে ঘেরা পরিবেশ ভ্রমণকে করে তোলে উপভোগ্য।
পাহাড়ের ওপর পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর। এছাড়া বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও পাখির দেখা মেলে। প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীরা এখানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
কোথায় খাবেন
হিমছড়ির ভেতরে খাবারের তেমন সুব্যবস্থা নেই। তাই খাবারের জন্য নির্ভর করতে হয় কক্সবাজার শহরের ওপর।
কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকায় রয়েছে নানা মানের রেস্টুরেন্ট — দেশি খাবার থেকে শুরু করে সামুদ্রিক মাছ, বারবিকিউ ও ফাস্টফুড সবই পাওয়া যায়। পাহাড়ে ওঠার আগে হালকা খাবার ও পানীয় সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়।
কোথায় থাকবেন
হিমছড়িতে থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল ও গেস্টহাউস সহজলভ্য।
সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন লাবণী, কলাতলী কিংবা ইনানী রোড এলাকায় মাঝারি ও মানসম্মত হোটেলে থাকা যায়। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তারা কিছু রিসোর্ট বেছে নিতে পারেন, যেখান থেকে হিমছড়িতে যাতায়াতও সহজ।
হিমছড়ি মূলত প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা। এখানে নেই অতিরিক্ত বিনোদনের আয়োজন, নেই কৃত্রিম জৌলুস।
পাহাড়, বন, ঝরনা আর দূরের সমুদ্র — এই চার উপাদানের সমন্বয়ই হিমছড়িকে আলাদা করে তোলে। কক্সবাজার ভ্রমণে যদি সমুদ্রের পাশাপাশি প্রকৃতির আরেক রূপ দেখতে চান, তবে হিমছড়ি হতে পারে সেই অনাবিল ঠিকানা।

