কক্সবাজার মানেই শুধু সমুদ্রসৈকত, এই ধারণার বাইরে গিয়ে যে স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়, তা হলো শহরটির রামু বৌদ্ধবিহার।
কক্সবাজার জেলা শহর থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই এলাকা বৌদ্ধ ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শন। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশ, প্রাচীন কাঠের মূর্তি, বিহারের স্থাপত্যশৈলী ও বৌদ্ধ পল্লির জীবনযাপন, সব মিলিয়ে রামু এক ভিন্ন রকমের ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে ওঠে।
কিভাবে যাবেন
রামু কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার শহরে। সেখান থেকে বাস টার্মিনাল বা কলাতলী এলাকা থেকে রামুগামী লোকাল বাস, সিএনজি অটোরিকশা কিংবা রিজার্ভ গাড়িতে ২০–৩০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়ক ধরে চললে রামু বাজার অতিক্রম করার পরই বৌদ্ধবিহারগুলোর অবস্থান চোখে পড়বে।যা দেখবেনরামু মূলত একাধিক বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ পল্লির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার, যেখানে রয়েছে শতাধিক বছরের পুরোনো কাঠের তৈরি বুদ্ধমূর্তি। এসব মূর্তির নকশা ও কারুকাজে আরাকানি শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্ট।
এছাড়া বিভিন্ন বিহারে সংরক্ষিত রয়েছে পুঁথি, ধর্মীয় চিত্রকর্ম ও ব্রোঞ্জের মূর্তি। বিহারসংলগ্ন গ্রামগুলোতে হাঁটলে দেখা যাবে রাখাইন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবন, ঐতিহ্যবাহী ঘরবাড়ি ও হস্তশিল্প। শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটানোই এখানে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
কোথায় খাবেন
রামু এলাকায় বড় কোনো রেস্তোরাঁ নেই। তাই খাবারের জন্য ভরসা করতে হবে কক্সবাজার শহরকে।
কক্সবাজারে ফিরে গেলে কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট কিংবা শহরের ভেতরে নানা মানের রেস্তোরাঁয় দেশি খাবার, সামুদ্রিক মাছ ও পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু বিশেষ রান্নার স্বাদ পাওয়া যায়। চাইলে রামু বাজারের আশপাশে স্থানীয় হোটেলগুলোতে সাধারণ ভাত-মাছ বা সবজির খাবারও পাওয়া যায়, যা স্বাদে ঘরোয়া।
কোথায় থাকবেন
রামুতে থাকার মতো পর্যটনমানের হোটেল নেই। তাই কক্সবাজার শহরেই অবস্থান করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন কলাতলী ও লাবণী পয়েন্ট এলাকায় বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে অভিজাত রিসোর্ট পর্যন্ত নানা বিকল্প রয়েছে। কক্সবাজারে থেকে দিনের একটি অংশ রামু ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট।
রামু বৌদ্ধবিহার ভ্রমণ মানে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে অনুভব করা। সমুদ্রভ্রমণের একঘেয়েমি ভেঙে ইতিহাস, শিল্প ও আধ্যাত্মিক শান্তির সংস্পর্শে যেতে চাইলে রামু নিঃসন্দেহে সময় দেওয়ার মতো একটি জায়গা।

