বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোনো ধরনের কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্বাক্ষরিত এক জরুরি পরিপত্রে বিচার বিভাগের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিপত্র অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাপ্তরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করা যাবে না।
একই সঙ্গে কোনো বিচারক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিজের নাম, ছবি, পদবি বা পরিচয় কোনো কোচিং সেন্টারের প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবেন না। এ ছাড়া কোচিংয়ের জন্য কোনো সহায়ক শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত বা সম্পাদন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক কর্মকর্তা পরিপত্রের বরাত দিয়ে বলেন, “বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বিচারকদের মর্যাদা রক্ষা করতেই এ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চাকরির আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। তারা বলছেন, বিচারকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পরিপত্র অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

