ঢাকার কোলাহল আর কংক্রিটের ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সবচেয়ে সহজ গন্তব্যগুলোর একটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।
গাজীপুরের ভাওয়াল শালবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এই সাফারি পার্ক শুধু বিনোদনের স্থান নয়, এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা ও পরিবেশ সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পরিবার, শিক্ষার্থী কিংবা প্রকৃতিপ্রেমী—সব ধরনের দর্শনার্থীর কাছেই পার্কটির আবেদন আলাদা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাওয়া বেশ সহজ। গুলিস্তান, মহাখালী বা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা বা চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত নিয়মিত বাস চলাচল করে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি নিয়ে সরাসরি সাফারি পার্কের মূল ফটকে পৌঁছানো যায়।
ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে চান্দনা চৌরাস্তা অতিক্রম করে ভাওয়াল রাজবাড়ীর দিকের সড়ক ধরে এগোতে হবে। সড়কপথ ভালো হওয়ায় যাত্রা স্বস্তিকর।
যা দেখবেন
পার্কের মূল আকর্ষণ হলো সাফারি জোন, যেখানে খোলা পরিবেশে বাঘ, সিংহ, হরিণ, জেব্রা ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী বিচরণ করে। নির্দিষ্ট সাফারি বাস বা নিজস্ব গাড়িতে এই জোন ঘুরে দেখার সুযোগ আছে।
আলাদা করে রয়েছে টাইগার ও লায়ন এনক্লোজার, যেখানে নিরাপদ দূরত্ব থেকে প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
এছাড়া কুমির লেক, হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, পাখি অ্যাভিয়ারি ও হাতি করিডর দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। শিশুদের জন্য রয়েছে খোলা মাঠ, লেকপাড়ের হাঁটার পথ ও নৌকা ভ্রমণের সুযোগ। শালবনের ভেতর ছায়াঘেরা এই পরিবেশ শহুরে জীবনের একঘেয়েমি ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কোথায় খাবেন
পার্কের ভেতরেই রয়েছে ক্যান্টিন ও খাবারের স্টল, যেখানে ভাত, ডাল, সবজি, ভাজা খাবার এবং হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। তবে খাবারের মান ও বৈচিত্র্য সীমিত হওয়ায় অনেক দর্শনার্থী বাইরে থেকে শুকনো খাবার নিয়ে আসেন।
পার্কের বাইরে গাজীপুর চৌরাস্তা বা চান্দনা এলাকায় বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্টে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে এলে দুপুরের খাবার বাইরে সেরে নেওয়াই অনেকের কাছে সুবিধাজনক।
কোথায় থাকবেন
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দিনের ভ্রমণই বেশি জনপ্রিয় হলেও আশপাশে রাতযাপনের ব্যবস্থা আছে। গাজীপুর শহরে মাঝারি মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়।
এছাড়া ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের আশপাশে কিছু রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা যায়। যারা একটু উন্নত সুবিধা চান, তারা ঢাকায় অবস্থান করেও একদিনে পার্ক ঘুরে ফিরে যেতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রকৃতির সঙ্গে বন্যপ্রাণী দেখার বিরল সুযোগ। এখানে প্রাণীদের খাঁচাবন্দি নয়, তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে দেখা যায়, যা শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
একই সঙ্গে এটি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা দেয়। স্বল্প সময়ে, কম খরচে এবং নিরাপদ পরিবেশে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সংস্পর্শ পেতে চাইলে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক একটি কার্যকর গন্তব্য।

