বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত নূহাশ পল্লী শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক ধরনের নান্দনিক ও মানসিক আশ্রয়স্থল। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত এই জায়গাটি লেখকের নিজস্ব ভাবনায় গড়ে ওঠা – যেখানে প্রকৃতি, নিঃসঙ্গতা ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে মিশে আছে। পাঠক, দর্শক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে নূহাশ পল্লী তাই আলাদা আকর্ষণের জায়গা।
নূহাশ পল্লী কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে নূহাশ পল্লীতে যাওয়া সহজ। গুলিস্তান, মহাখালী বা কুর্মিটোলা এলাকা থেকে গাজীপুরগামী বাসে উঠে কাপাসিয়া রোডের কাছাকাছি নামতে হয়।
সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে নূহাশ পল্লী পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে গাজীপুর হয়ে কাপাসিয়ার দিকে মোড় নিতে হয়।
যানজট না থাকলে ঢাকার ভেতর থেকে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। পথের শেষ অংশ গ্রামাঞ্চল দিয়ে হওয়ায় যাত্রাপথ নিজেই এক ধরনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
নূহাশ পল্লী যা দেখবেন
নূহাশ পল্লীর প্রধান আকর্ষণ শাওন বাড়ি, যেখানে হুমায়ূন আহমেদ নিয়মিত সময় কাটাতেন ও লিখতেন।
বাড়ির চারপাশে বিস্তৃত সবুজ বাগান, পুকুর, খোলা মাঠ এবং ছায়াঘেরা পথ পুরো এলাকাকে শান্ত ও নীরব করে রেখেছে। এখানে লেখকের ব্যবহার করা কিছু জিনিস, লেখালেখির পরিবেশ ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত আছে।
গাছপালা ও জলাশয়ের বিন্যাসে একটি পরিকল্পিত নান্দনিকতা চোখে পড়ে, যা তার সাহিত্যিক রুচির প্রতিফলন। হাঁটাহাঁটি করতে করতে প্রকৃতির সঙ্গে একধরনের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয়—যা নূহাশ পল্লীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
নূহাশ পল্লী কোথায় খাবেন?
নূহাশ পল্লীর ভেতরে স্থায়ী কোনো বড় রেস্টুরেন্ট নেই। সাধারণত দর্শনার্থীরা দিনে গিয়ে ঘুরে আসেন। কাছাকাছি কাপাসিয়া বা গাজীপুর শহরের এলাকায় সাধারণ মানের রেস্টুরেন্টে দেশি খাবার পাওয়া যায়।
অনেকেই নিজেদের সঙ্গে শুকনো খাবার বা হালকা নাস্তা নিয়ে যান। তবে খাবার বহনের ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
নূহাশ পল্লী কোথায় থাকবেন?
নূহাশ পল্লীতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা নেই। এটি মূলত দিনভিত্তিক ভ্রমণের স্থান। রাতযাপনের প্রয়োজন হলে গাজীপুর শহরে থাকতে হয়।
জয়দেবপুর ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়। আবার যারা একটু উন্নত সুবিধা চান, তারা ঢাকায় ফিরে রাত কাটানোকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন।
নূহাশ পল্লীর আকর্ষণ মূলত এর নীরবতা, প্রকৃতি ও স্মৃতির আবেশে। এটি কোনো বিনোদন পার্ক নয়, বরং এক লেখকের মানসিক জগৎকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। যারা হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ভালোবাসেন বা ভিড়হীন, ভাবনার জায়গা খুঁজছেন—তাদের জন্য নূহাশ পল্লী এক অনন্য গন্তব্য।

