গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একাধিক গ্রাম পরিচিত ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে। শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে এই জনপদ রূপ নেয় বিস্তীর্ণ গোলাপক্ষেতে।
সারি সারি লাল, গোলাপি ও সাদা গোলাপে ঢেকে যায় মাঠ, বাড়ির আঙিনা ও খেতের আইল। নগরের সাজানো বাগান নয়, গ্রামবাংলার স্বাভাবিক কৃষিজ পরিবেশে গোলাপচাষই এই এলাকার প্রধান আকর্ষণ।
গোলাপ গ্রামে কী দেখবেন?
গোলাপ গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে খোলা মাঠজুড়ে গোলাপের সারি। কুঁড়ি থেকে পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল—সব পর্যায়ই দেখা যায় একসঙ্গে। ভোরবেলায় শিশিরভেজা গোলাপ আর সকালের আলো ফটোগ্রাফির জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।
স্থানীয় কৃষকেরা কীভাবে চারা রোপণ, ছাঁটাই ও ফুল সংগ্রহ করেন—সেই প্রক্রিয়াও কাছ থেকে দেখা যায়। অনেক বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরের গোলাপ বাগান রয়েছে, যেখানে পরিবারের সদস্যরাই পরিচর্যা করেন।
ফুল তোলার পর সেগুলো বাঁশের ঝুড়িতে ভরে স্থানীয় হাট বা আড়তে পাঠানোর দৃশ্য গ্রামজীবনের একটি জীবন্ত ছবি তুলে ধরে।
গোলাপ গ্রাম কেন যাবেন?
সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রাম মূলত কৃষিভিত্তিক পর্যটনের উদাহরণ। এখানে নেই কৃত্রিম সাজসজ্জা বা টিকিটকেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামো।
প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের শ্রম – এই তিনের সম্মিলনই দেখার মূল কারণ। শহুরে কোলাহল থেকে বেরিয়ে খোলা মাঠ, ফুলের সুবাস আর গ্রামীণ জীবনের ছন্দ অনুভব করতে চাইলে গোলাপ গ্রাম কার্যকর গন্তব্য।
পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কথা বলে গোলাপচাষের অর্থনীতি ও সংগ্রাম জানা যায়, যা ফিচার রিপোর্টের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
গোলাপ গ্রাম কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য গাবতলী বা কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায়। গাইবান্ধা শহরে নেমে সেখান থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলার দিকে বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় যেতে হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর থেকে রিকশা বা ভ্যান নিয়ে আশপাশের গোলাপ চাষের গ্রামগুলোতে পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা–বগুড়া–গাইবান্ধা সড়ক ব্যবহার করে সহজেই যাওয়া সম্ভব।
গোলাপ গ্রাম কোথায় খাবেন?
গোলাপ গ্রামে কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। খাবারের জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর বা গাইবান্ধা শহরের ওপর নির্ভর করতে হয়। উপজেলা সদরে সাধারণ মানের হোটেলে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংসের খাবার পাওয়া যায়।
দিনের বেলা ঘুরে বিকেলের মধ্যেই শহরে ফিরে খাবার সেরে নেওয়াই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা।
গোলাপ গ্রামে কোথায় থাকবেন?
গোলাপ গ্রামে থাকার ব্যবস্থা নেই। রাতযাপনের প্রয়োজন হলে গাইবান্ধা শহরে থাকতে হবে। সেখানে কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেগুলো স্বল্প ও মাঝারি বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য উপযোগী। অধিকাংশ দর্শনার্থী এক দিনের সফর হিসেবেই সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রাম ঘুরে থাকেন।
গোলাপের মৌসুম সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত। এই সময়েই মাঠ ভরা ফুল দেখা যায়। বর্ষা বা অফ-সিজনে গেলে খেত ফাঁকা থাকতে পারে।
খেতে নামার সময় চাষের ক্ষতি না হয় – এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। স্থানীয় মানুষের অনুমতি নিয়ে ছবি তোলা ও ক্ষেতের ভেতর চলাচল করা উচিত।

