দিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদতের একটি হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। গভীর রাতে, যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করাই তাহাজ্জুদ। কোরআন ও হাদিসে এ নামাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন এবং উম্মতকে এ নামাজের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের পর নফল নামাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদ।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট সময় হলো রাতের শেষাংশ। সাধারণভাবে এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে পড়ে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে জেগে উঠে এ নামাজ আদায় করা উত্তম। সাহরির সময়ের আগ মুহূর্তকে তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় ধরা হয়।
তবে কেউ যদি গভীর রাতে জেগে উঠতে না পারেন, তাহলে এশার নামাজের পরও নফল হিসেবে তাহাজ্জুদের নিয়তে নামাজ আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে পড়লে তার মর্যাদা বেশি।
তাহাজ্জুদ কয় রাকাত
তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাত নির্দিষ্ট নয়। দুই রাকাত থেকে শুরু করে দুই দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা আদায় করা যায়। অনেকে চার, ছয়, আট বা বারো রাকাত পর্যন্ত আদায় করেন। তবে সাধারণভাবে চার রাকাত বা আট রাকাত আদায় করা প্রচলিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত দুই রাকাত করে নামাজ পড়তেন এবং দীর্ঘ কেরাতের মাধ্যমে নামাজকে দীর্ঘ করতেন। অর্থাৎ কোরআনের আয়াত বেশি তিলাওয়াত করা এবং মনোযোগ দিয়ে নামাজ আদায় করাই এ নামাজের মূল বৈশিষ্ট্য।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়ম মূলত অন্যান্য নফল নামাজের মতোই। প্রথমে ঘুম থেকে উঠে ভালোভাবে অজু করতে হবে। এরপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে নিয়ত করে নামাজ শুরু করতে হবে।
প্রথমে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করা হয়। তারপর সানা, সূরা ফাতিহা ও কোরআনের অন্য কোনো সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। এরপর রুকু, সিজদা এবং তাশাহহুদসহ দুই রাকাত সম্পন্ন করতে হয়। একইভাবে দুই রাকাত করে পরবর্তী রাকাতগুলো আদায় করা যায়।
প্রতিটি রাকাতে মনোযোগ ও ধীরস্থিরতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাহাজ্জুদ নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়া এবং বেশি সময় ধরে দোয়া করা উত্তম বলে বিবেচিত।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত
তাহাজ্জুদ নামাজ নফল ইবাদত হওয়ায় এর নিয়ত খুব সহজ। হৃদয়ে ইচ্ছা পোষণ করলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়। কেউ চাইলে মুখে উচ্চারণও করতে পারেন।
বাংলায় নিয়ত হতে পারে এমন: “ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যআমি দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি।”
আরবিতে নিয়ত করলে বলা যায়, নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাকআতাইত তাহাজ্জুদি লিল্লাহি তা’আলা।
তবে আরবি উচ্চারণ জানা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। মূল বিষয় হলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা।
ইবাদতের বিশেষ মুহূর্ত
রাতের শেষ ভাগকে ইসলামে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় বলা হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে, এ সময়ে আল্লাহ বান্দাদের ডেকে বলেন, কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব; কে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।
এই সময়টিতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করা মুমিনের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। নিয়মিতভাবে তাহাজ্জুদ আদায় করলে আত্মিক প্রশান্তি, আল্লাহর নৈকট্য এবং আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের পথ সুগম হয়।

