ইরানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছিল – জানিয়েছে রয়টার্স।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: দশকের পর দশক ধরে সৌদি-ইরান দ্বন্দ্ব ছায়াযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল – ইয়েমেন, সিরিয়া বা লেবাননে প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে। এবার সরাসরি ইরানের মাটিতে রিয়াদের আঘাত সেই সীমারেখা ভেঙে দিয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি-ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মূল প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ আগ্রাসন চালালে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল অবকাঠামো ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করে।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়েছিল। এই হামলার ঘটনাটি সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: সংযুক্ত আরব আমিরাত যেখানে প্রকাশ্যে কঠোর সামরিক অবস্থান নিয়েছে, সৌদি আরব সেখানে গোপনে হামলা চালিয়েও বাইরে নিজেকে সংযত হিসেবে তুলে ধরার দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে।
রিয়াদ একদিকে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে, আবার অন্যদিকে সামরিক হামলার মাধ্যমে দরকষাকষির টেবিলে নিজেদের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করছে।
পরিসংখ্যান: রয়টার্সের তথ্যমতে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।
পরবর্তী সপ্তাহে অর্থাৎ ১ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে এই হামলার সংখ্যা কমে মাত্র ২৫টিতে নেমে আসে। এই ব্যাপক হ্রাস নির্দেশ করে যে, গোপন হামলার পর দুই দেশ একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
এরপর কী: যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে সৌদি-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত।
উভয় দেশই বুঝতে পেরেছে যে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাত একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, তাই তারা আপাতত সরাসরি আক্রমণ বন্ধ রেখে পর্দার আড়ালে কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
সারকথা: মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান শক্তির মধ্যে এই সরাসরি সংঘাতের খবরটি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।

