যশোরের সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তোতার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ জুলাই পালিত হচ্ছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: মিজানুর রহমান তোতা কেবল একজন দক্ষ সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন যশোর অঞ্চলের সাংবাদিকতা ও সাহিত্য অঙ্গনের এক অভিভাবক। ২০২১ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রয়াণ ঘটে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাহিত্য মহলে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে।
সামগ্রিক চিত্র: ১৯৪৭ সালে ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণকারী তোতা সাংবাদিকতায় তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দৈনিক আজাদ, দৈনিক স্ফুলিঙ্গ এবং শেষ পর্যন্ত দৈনিক ইনকিলাবের যশোর ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক ও তিনবার সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।
অন্তরালে যা আছে: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সৃজনশীল কবি ও লেখক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তার লেখা ‘মাঠ সাংবাদিকতা’ এবং আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ক্ষতবিক্ষত বিবেক’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
- এছাড়া তার ৮০টি নির্বাচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত ‘দিবানিশি স্বপ্নের খেলা’ কাব্যগ্রন্থটি তার সাহিত্যিক সত্তার পরিচয় বহন করে।
সংখ্যায়: ১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নেওয়া এই ব্যক্তিত্ব দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তিনবার প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দৈনিক ইনকিলাবের ব্যুরো প্রধান হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন।
এরপর কী: তার মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক ও সাহিত্যিকরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন। তার রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য পেশাগত সততা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সারকথা: একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ ও আপসহীন সাংবাদিক হিসেবে মিজানুর রহমান তোতা যশোরের সাংবাদিকতা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার স্ত্রী রেবা রহমানও সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন, যা তাদের পরিবারকে সাংবাদিকতার এক অনন্য আবহে গড়ে তুলেছিল।

