লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তিস্তার করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারানো ২৫টি পরিবার এক প্যাকেট শুকনো খাবারের আশায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরেছেন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের এই আহাজারি স্থানীয় প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যা ঘটেছে: রোববার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, বৈরাতী এলাকার ভাঙনকবলিত নারী, শিশু ও পুরুষেরা তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। দিনমজুর এই মানুষগুলো কাজ হারিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন এবং সরকারি ত্রাণের আশায় দিন গুনছেন।
অন্তরালে যা আছে: ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, গত বুধবারই তারা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিয়েছিলেন। এরপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতারই প্রতিফলন।
সংখ্যায়: তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ২৫টি পরিবার এই সহায়তার অপেক্ষায় ছিল।
- সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি এক প্যাকেট শুকনো খাবার, যা তাদের অসহায়ত্বের চিত্রকে আরও প্রকট করেছে।
এরপর কী: ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত খাদ্য সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
সারকথা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা কেবল একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা। দ্রুত এই পরিবারগুলোর পাশে না দাঁড়ালে তাদের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

