যশোরে নামী প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মের পরিচয় ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও আস্থার ওপর বড় আঘাত। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা কতটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
যা ঘটেছে: টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বিদেশ থেকে আমদানিকৃত লাইমস্টোন সরবরাহ করেন। প্রতারক চক্রটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে কাজী ফার্মের কর্মকর্তা সেজে তার সাথে যোগাযোগ করে ৪৫ টন লাইমস্টোনের অর্ডার দেয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি কাজী ফার্মের ছবি ও লোগো ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকে বিভ্রান্ত করে।
ঘটনার গভীরে: গত ১৩ মে পণ্যবাহী ট্রাকটি যশোরে পৌঁছালে আসামিরা কৌশলে আফিল ফিলিং স্টেশনের কাছে মালামাল খালাস করে নেয়।
- টাকা পরিশোধের পরিবর্তে তারা উল্টো কমিশনের নামে আরও অর্থ দাবি করে, যা থেকেই ব্যবসায়ীর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়।
- পরবর্তীতে সরাসরি কাজী ফার্মের অফিসে যোগাযোগ করে মিজানুর রহমান নিশ্চিত হন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন।
এরপর কী: ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা ও প্রতারণার মামলা করেছেন।
- পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে, কারণ এর আগেও একই কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে অন্য একটি মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের নজির রয়েছে।
সারকথা: অনলাইনভিত্তিক ভুয়া পরিচয় ও ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পুলিশ এখন এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।

