কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিকে তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: মানবিক বিবেচনায় কারাবন্দি একজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি আইন ও মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এটি দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় কারাবন্দিদের বিশেষ পরিস্থিতিতে মুক্তি পাওয়ার অধিকারকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
যা ঘটেছে: মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধানে থাকা ডা. দীপু মনিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বিশেষ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সংখ্যায়: মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে। ১২ ঘণ্টার এই প্যারোল ডা. দীপু মনিকে তার স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার পেছনে যা আছে: ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। গত মে মাসে হুইলচেয়ারে করে আদালতে কারাবন্দি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসা তৌফিক নেওয়াজের সেই আবেগঘন দৃশ্যটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এরপর কী: প্যারোলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ডা. দীপু মনিকে পুনরায় মুন্সিগঞ্জ কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে তিনি শেষবারের মতো তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
সারকথা: আইনি জটিলতার মাঝেও মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মুক্তি ডা. দীপু মনির ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও এর পেছনে থাকা মানবিক দিকটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

