একসঙ্গে একাধিক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে বরিশালে তিন প্রেমিকার হাতে প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হয়েছেন মো. জাবেদ নামের এক মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: এই ঘটনাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিশ্বাসভঙ্গ নিয়ে সমাজে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও চেয়ে চাপ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওই তরুণের বিরুদ্ধে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
যা ঘটেছে: অভিযুক্ত জাবেদ বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে আসছিলেন। সোমবার রাতে নগরের মুন্সিগ্যারেজ এলাকায় তিন প্রেমিকা কৌশলে তাকে ডেকে এনে জনসম্মুখে মারধর করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অন্তরালে যা আছে: ভুক্তভোগী তরুণীদের অভিযোগ, জাবেদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পড়াশোনার খরচ, মোটরসাইকেলের কিস্তি এবং মুঠোফোন কেনার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পাঠানোর জন্য তিনি নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করতেন, যা মূলত ব্ল্যাকমেইলের একটি কৌশল ছিল।
- সংখ্যায়: ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিন তরুণী, যারা জাবেদের প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে প্রতিহত করেন।
- জাবেদ বর্তমানে কোতয়ালী মডেল থানায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
এরপর কী: কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ এখন জাবেদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তদন্ত করছে।
সারকথা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণার এই ঘটনাটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে ভুক্তভোগীদের আইনি পথে প্রতিকার চাওয়ার বিষয়টি এখন বড় আলোচনার বিষয়।

