ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে এই সেমিনারটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারত। দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের উদ্বেগের প্রতি ভারতের ইতিবাচক সাড়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যা ঘটেছে: শনিবার সন্ধ্যায় এফসিসি অডিটোরিয়ামে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেমিনারটি হওয়ার কথা ছিল। এতে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদসহ একাধিক বিদেশি কূটনীতিক ও মানবাধিকার কর্মীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
অন্তরালে যা আছে: গত ৫ আগস্ট এফসিসি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই ভারত সরকার এবার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর কী: দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ না জানালেও, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যেকোনো অনুষ্ঠান বন্ধের আইনি অধিকার তাদের রয়েছে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।
সারকথা: দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানস্থলে ব্যারিকেড দিয়ে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করে সেমিনারটি পণ্ড করে দেয়। ভারত সরকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে।

