ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের উদ্দেশ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্য নিয়ে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি অংশ নেবেন। এ বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় উপস্থিত থাকতে পারেন। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগ এমন এক প্রেক্ষাপটে আসছে, যখন দুই দিন আগে ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানিয়েছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা একটি কাঠামোগত অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা নিয়ে প্রচারিত গুজব প্রত্যাখ্যান করেন।
লারিজানির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে আব্বাস আরাগচি ও স্টিভ উইটকফের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের ফলে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামান্যতম সামরিক পদক্ষেপ নিলেও তার জবাব হবে কঠোর ও পরিকল্পিত।
রোববার ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়িও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একাধিক পারমাণবিক চুক্তি প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো শর্ত।
#আরএ

