আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালনের সময় সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন। একই দিনে তিনি ময়মনসিংহে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘অলিম্পিক ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের আচরণ ও কার্যক্রম সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাগরিকবান্ধব আচরণ প্রদর্শনের পাশাপাশি ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেন।সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদার আচরণই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো ঘটনা গ্রহণযোগ্য হবে না।মতবিনিময় সভা শেষে সেনাপ্রধান নাগরিক সহায়তায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সময় সেনাসদস্যদের আচরণই বাহিনীর ভাবমূর্তি নির্ধারণ করে।
ময়মনসিংহ সফরের আরেক অংশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পটি দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, অলিম্পিক ভিলেজ বাস্তবায়িত হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াবিদরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এতে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একদিকে নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কড়া বার্তা, অন্যদিকে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ–এই দুই বিষয়ই সেনাবাহিনীর চলমান দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং অলিম্পিক ভিলেজ প্রকল্প–উভয়ই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করছে।
#আরএ

