জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১৮ বছর বয়সী সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ বাহিনীর নাম ও কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে এর নাম ‘জনসেবক বাহিনী’ বা উপযোগী অন্য কোনো নামে পরিবর্তন করা হবে। বাহিনীর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে স্থানীয় পর্যায়ে কাঠামো গড়ে তোলা হবে। উপজেলা পর্যায় থেকেই নিয়োগ ও পদায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নিয়োগে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
তাঁর মতে, এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমবে এবং জবাবদিহি বাড়বে। ভাষণে তিনি গত ৫৫ বছরে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ‘বৈষম্যের কাঠামো’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থানকে ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দিতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু অপরাধী দেশ ছেড়েছে, কেউ কেউ বিচারের মুখোমুখি হলেও এখনো অনেক খুনি ও দুর্নীতিবাজ আত্মগোপনে রয়েছে।
এনসিপি ক্ষমতায় গেলে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কোনো বাহিনী বা পদমর্যাদা অপরাধীদের রক্ষা করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি সরকার গঠন করলে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লুটপাটকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্র নীতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার দেশকে ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে ফেলেছিল। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা দায় এড়িয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে দুর্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে আত্মমর্যাদাশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, সার্ক পুনর্জীবন, আসিয়ানে যোগদানের চেষ্টা এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের কারণে তাদের সক্ষমতা বাড়েনি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরিতে এগিয়ে গেছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য তিনি সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্রকে দায়ী করেন। সরকারে গেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেন।
এ ছাড়া বিচার বিভাগ সংস্কার, স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতাবান করা, ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা, নারীর সমান অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ ইসলাম।
#আরএ

