সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পবিত্র কাবার ‘কিসওয়া’ প্রেরণ করার খবরে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে গোটা মুসলিম বিশ্ব।
জানুয়ারির শেষাংশে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের তথ্য মোতাবেক, সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাবা শরীফের পবিত্র এই আচ্ছাদনটি গ্রহণের পর এপস্টেইন মেঝের কার্পেট হিসেবে সেটিকে ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকাণ্ডকে ইসলাম ধর্মের এক অন্যতম অবমাননাকর বিষয় হিসেবে মনে করছেন মুসলিমরা।
যেভাবে কাবা থেকে এপস্টেইনের হাতে পৌঁছায় কিসওয়া
মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে মক্কা থেকে পবিত্র কাবার কিসওয়া পৌঁছায় এপস্টেইনের হাতে।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ভেতর এই পবিত্র কাপড়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের “কিছু ব্যক্তির সহায়তায়” জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এপস্টেইনকে কারা পাঠিয়েছিলেন এই কিসওয়া?
এপস্টেইন নথিতে কারা এপস্টেইনকে কিসওয়া পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজিজা আল আহমাদি নামের এক নারী ব্যবসায়ী ও আব্দুল্লাহ আর মারি নামের এক ধনকুবের তিনটি কিসওয়া বস্ত্র এপস্টেইনকে প্রেরণ করেছিলেন।
বস্ত্রটি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমানে লজিস্টিক শিপমেন্ট করা হয় বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়। নথিটিতে বলা হয়, “একটি সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় বস্তু” হিসেবে বস্ত্রটি প্যাকেজিং করে সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি মালবাহী ফ্লাইটে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা হয়ে ভার্জিন দ্বীপে অবস্থিত এপস্টেইনের বাসভবনে পৌঁছানো হলো—তা একটি রহস্যের বিষয়। এপস্টেইনের মেইলগুলো থেকে পাওয়া এই তথ্যটির আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিতেরও দাবি জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)।
এ দিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এপস্টেইন যদি সত্যিই ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় অবমাননাকর এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন, তবে তা তাঁর অপরাধমূলক কাজের জন্য আরেকটি ঘৃণিত দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে।
‘কিসওয়া’ আসলে কী? কেন এটি মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাবা শরীফের আচ্ছাদনকেই সাধারণত কিসওয়া বলা হয়ে থাকে। এই আচ্ছাদনটি বস্ত্রের তৈরি। এতে থাকে কালো ও সোনালী সুতার কারুকার্যবিশিষ্ট বিশেষ নকশা।
নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি, অভূতপূর্ব নকশা, এবং প্রস্তুতকরণের সময়ে অনন্য বস্তুসমূহের ব্যবহার কিসওয়াকে ইসলামী কারুকাজ, ঐতিহ্য ও প্রার্থনার একটি অনবদ্য পবিত্র বস্তুতে পরিণত করেছে। এ কারণে, কঠোর প্রটোকলের আওতায় গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এটির তদারকি করা হয়ে থাকে।
সূত্র: নিউজ এক্স
#আরএ

