নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির ধারায় ফিরে যেতে চায়। তার ভাষায়, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, জাতীয় মর্যাদা এবং পারস্পরিক লাভ—এই নীতিগুলোই হবে বাংলাদেশের কূটনীতির রেডলাইন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ কোথায়, কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা উপকৃত হতে পারে—সেটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জন করে। এরপর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে চার বছরের মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ছিল কূটনীতিতে এক সাহসী ও কৌশলগত সাফল্য। শক্তিধর রাষ্ট্রকে পরাজিত করে সে অর্জন বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ক গঠনের উদ্যোগকেও তিনি জিয়াউর রহমানের বড় অবদান হিসেবে উল্লেখ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার মতো কম সংযুক্ত অঞ্চলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে সার্কের মাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন খলিলুর রহমান। তার মতে, বাংলাদেশের সামর্থ্যের তুলনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা অনেক সময় প্রত্যাশিত মাত্রায় ছিল না; নতুন সরকার সেই শূন্যতা পূরণে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ওপর নজরদারি কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না; বরং তা আরও জোরদার হবে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে পূর্ববর্তী দায়িত্বের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলবে। এ বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও সরকার গঠন ঘিরে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ সংক্রান্ত অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার বক্তব্য, গণনায় অসংগতি থাকলে তা পুনরায় যাচাই করা সম্ভব।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পদে তিনি জোর করে আসেননি; সময়ের সঙ্গে মানুষের ধারণাও বদলায়।গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি সংবেদনশীল বিষয়; একটি ভুল বার্তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
#আরএ

