‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগকে কেবল ডিভাইস বিতরণের প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং শিক্ষণ-শেখার পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পেডাগজি-রিফর্ম—যেখানে প্রযুক্তি হবে শেখার সহায়ক অবকাঠামো, উদ্দেশ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ — এই তিনটি উদ্যোগকে সমন্বিত করে একটি শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতা ট্র্যাকযোগ্য, মানসম্মত এবং ফলভিত্তিক হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে তিনটি সক্ষমতাকে বাধ্যতামূলক করা হবে — ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা এবং সাইবার সেফটি। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ–এর সঙ্গে সমন্বয় করে পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হবে। শিক্ষকদের হাতে থাকা ট্যাবের ভেতর থাকবে পাঠ-পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং শিখন-প্রমাণ (লার্নিং এভিডেন্স) আপলোডের সুবিধা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্ভব হবে বলে দাবি করেন ববি।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল দক্ষ বাংলাদেশ’ ভিশন বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত জাতীয় ডিজিটাল দক্ষতা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষা খাতকে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে। এতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর একই কাঠামোর মধ্যে এগোবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য হবে শেখার মান উন্নয়ন ও শিক্ষককে প্রশাসনিক কাজের চাপ থেকে মুক্ত রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক স্তর থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণাও দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খেলাধুলার মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে জোর দেওয়া হবে। খেলাধুলা কেবল আলাদা ইভেন্ট হিসেবে নয়, বরং টাইমটেবিলভিত্তিক নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত স্পোর্টস পিরিয়ড থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্ট আয়োজন, স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ ও লিগ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, এতে ক্রীড়ায় ধারাবাহিকতা আসবে এবং প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর থেকেই শনাক্ত হবে।শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার এই রূপান্তরে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও ক্রীড়াকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে। শিক্ষক ট্যাব, ডিজিটাল সক্ষমতা ও বাধ্যতামূলক খেলাধুলা — এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে একটি সমন্বিত শিক্ষণ পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হলে শেখার মান, শিক্ষকতার পেশাগত সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
#আরএ

