মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। এসব নথি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এপস্টেইনের কথিত শিশু পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদ উইলিয়াম ব্লেইন রিচার্ডসনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে, তার নির্বাচনী প্রচারণায় অনুদান দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও ফেনী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আওয়াল মিন্টু।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে রিচার্ডসনের তহবিলে অনুদানদাতাদের তালিকা সংবলিত একটি ফাইল (EFTA02729080) পাওয়া যায়। ৭ মার্চ ২০০৬ তারিখে প্রস্তুত করা ওই নথির ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় দেখা যায়, আব্দুল আওয়াল মিন্টু রিচার্ডসনকে পাঁচ হাজার ডলার অনুদান দেন। একই নির্বাচনী প্রচারণায় জেফরি এপস্টেইন অনুদান দেন পঞ্চাশ হাজার ডলার। তবে প্রকাশিত কাগজপত্রে এপস্টেইন ও মিন্টুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ উল্লেখ নেই।
উইলিয়াম ব্লেইন রিচার্ডসন (১৯৪৭–২০২৩) নিউ মেক্সিকোর ৩০তম গভর্নর ছিলেন এবং ক্লিনটন প্রশাসনে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও জ্বালানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কংগ্রেস সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও ছিলেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে রিচার্ডসনের যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় ভার্জিনিয়া জিউফ্রের করা একটি দেওয়ানি মামলার নথি প্রকাশের পর। জিউফ্রে দাবি করেন, নাবালক অবস্থায় তাকে রিচার্ডসনসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল।
এপস্টেইন ২০০২ ও ২০০৬ সালে রিচার্ডসনের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় অঙ্কের অনুদান দেন। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত ফ্লাইট লগে রিচার্ডসনের নাম থাকার তথ্যও সামনে আসে।
রিচার্ডসন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় তদন্ত চলছিল না। তবে জিউফ্রের মৃত্যোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা ও নতুন নথিতে তাঁর নাম পুনরায় উঠে আসায় বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
#আরএ

