দুপুরে খাবার খাওয়ার পর অনেকের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে। ভরপেট আহারের পর বিশ্রাম নেওয়াকে কেউ কেউ আরামদায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটি দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে অনেকে এ ঘুমকে ‘ভাত ঘুম’ আখ্যা দিয়ে থাকেন।
কাজের চাপ কম থাকলে বা সুযোগ মিললে দুপুরে ঘুমানোকে সাধারণভাবে ক্ষতিকর বলা যায় না। বরং সঠিক নিয়ম মেনে নিলে এটি শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।
এ ধরনের ঘুমের কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সেগুলো সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। এ বিষয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুপুরের ঘুমের উপকারিতা ও সতর্কতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি মোতাবেক, প্রতিদিন দুপুরে ভরপেট খাওয়া হোক বা না হোক, নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘুমানো হলে শরীর স্বস্তি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ঘুম ভাব আসা স্বাভাবিক। এই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিলে মন ও মস্তিষ্ক সতেজ থাকে। এতে মেজাজ ভালো হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং কাজের প্রতি অধ্যাবসায় বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাও উন্নত হয়।
আবার, দুপুরের ঘুম দূর করতে কফি পান করার প্রবণতা অনেকের মাঝে থাকলেও এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে কফি না খেয়ে অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নেওয়াই ভালো। তবে ঘুমের সময়সীমা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে রাখা জরুরি।
দুপুরের ঘুম স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং মানসিক সচেতনতা বাড়ায়। তবে এই ঘুম যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি হয়, তাহলে উল্টো অস্থিরতা ও ঝিমুনি দেখা দিতে পারে। এছাড়া স্বল্প সময়ের ঘুম সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এতে নতুন ভাবনার জন্ম হয়, মানসিক চাপ কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়। কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হয়।
একইসঙ্গে, দুপুরে সঠিকভাবে ঘুমালে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কাজের প্রতি উৎসাহ তৈরি হয়। এ কারণেই অনেকেই লক্ষ্য করেন, দুপুরের ঘুমের পর তারা আগের তুলনায় বেশি উদ্যম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
#আরএ

