ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া এখন খুব অস্বাভাবিক নয়। একাধিক অ্যাকাউন্ট, জটিল পাসওয়ার্ড ও দীর্ঘদিন লগইন না করার কারণে অনেকেই এই সমস্যায় পড়েন। তবে সঠিক ধাপ অনুসরণ করলে অল্প সময়েই অ্যাকাউন্টে ফিরে আসা সম্ভব।
‘Forgotten password?’ অপশন ব্যবহার
ফেসবুক লগইন পেজে ইমেইল বা মোবাইল নম্বরের ঘরে তথ্য দেওয়ার নিচে ‘Forgotten password?’ অপশন থাকে। সেখানে ক্লিক করলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার জন্য ইমেইল, মোবাইল নম্বর বা ইউজারনেম চাইবে। আগে যেটি অ্যাকাউন্টে যুক্ত ছিল, সেটি সঠিকভাবে লিখতে হবে।
যাচাইকরণ কোড গ্রহণ
অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হলে ফেসবুক একটি যাচাইকরণ কোড পাঠায়। এটি এসএমএসের মাধ্যমে মোবাইল নম্বরে বা ইমেইলে পাঠানো হতে পারে। কোডটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইনপুট দিতে হবে। কোড না এলে ‘Resend code’ অপশন ব্যবহার করা যায়। ইমেইলের ক্ষেত্রে স্প্যাম বা প্রোমোশন ফোল্ডারও চেক করা জরুরি।
নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা
যাচাইকরণ সফল হলে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন আসবে। পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে, যা আগে ব্যবহার করা হয়নি। অন্তত ৮-১২ অক্ষরের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো—বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে।
পাসওয়ার্ড সেটের পর ফেসবুক সাধারণত জিজ্ঞেস করে, অন্য ডিভাইসগুলো থেকে লগআউট করবেন কি না। নিরাপত্তার জন্য ‘Log out of other devices’ নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত।
মোবাইল নম্বর বা ইমেইল অ্যাক্সেস না থাকলে
অনেক সময় অ্যাকাউন্টে যুক্ত মোবাইল নম্বর বা ইমেইলে আর প্রবেশাধিকার থাকে না। সে ক্ষেত্রে ‘No longer have access to these?’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
ফেসবুক তখন বিকল্প ইমেইল চাইতে পারে, যেখানে পরবর্তী যোগাযোগ করা হবে। এরপর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান/ছবি আপলোড করতে বলতেও পারে। তথ্য মিললে কয়েকদিনের মধ্যে রিকভারি লিংক পাঠানো হয়।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে
যাদের অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু আছে, তাদের অতিরিক্ত যাচাইকরণ দরকার হতে পারে। অথেনটিকেশন অ্যাপ, এসএমএস কোড বা রিকভারি কোড ব্যবহার করে লগইন সম্পন্ন করতে হয়। আগে সংরক্ষিত রিকভারি কোড থাকলে প্রক্রিয়া সহজ হয়।
হ্যাকিংয়ের সন্দেহ হলে করণীয়
পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট হ্যাকের সন্দেহ থাকলে ‘facebook.com/hacked’ ঠিকানায় গিয়ে রিপোর্ট করতে হবে। সেখানে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়ে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পাশাপাশি ইমেইল, ফোন নম্বর ও লগইন অ্যাক্টিভিটি যাচাই করা জরুরি।
ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে করণীয়
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। অ্যাকাউন্টে আপডেটেড মোবাইল নম্বর ও ইমেইল যুক্ত রাখা প্রয়োজন।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করলে নিরাপত্তা বাড়ে। সন্দেহজনক লিংক বা ভুয়া লগইন পেজে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে নিরাপদে তথ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
সঠিক ধাপ অনুসরণ করলে ফেসবুক পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার কঠিন নয়। নিরাপত্তা সচেতনতা বজায় রাখাই ভবিষ্যতে ঝামেলা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
#আরএ

