ঢাকার সাভার উপজেলার মজিদপুর এলাকায় অবস্থিত রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবিকে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শ বলে মনে করা হয়।
স্থানীয়ভাবে ‘হরিশ্চন্দ্রের ঢিবি’ নামে পরিচিত এই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে গবেষক, ইতিহাসপ্রেমী এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র। বিস্তৃত উঁচু মাটির ঢিবি এবং চারপাশের নিস্তব্ধ পরিবেশ জায়গাটিকে রহস্যময় এক ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করেছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই ঢিবির সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রাচীন হিন্দু রাজা হরিশ্চন্দ্রের নাম। লোককথা ও স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে একসময় রাজা হরিশ্চন্দ্রের রাজপ্রাসাদ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্থাপনা ধ্বংস হয়ে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে একটি উঁচু ঢিবিতে পরিণত হয়। যদিও এর সুনির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবু ধারণা করা হয় এটি প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় কোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।
ঢিবিটির চারপাশে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাওয়া যায় পুরোনো ইট ও মাটির টুকরো, যা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। গবেষকদের মতে, এই ধরনের ঢিবি সাধারণত কোনো প্রাচীন স্থাপনা, দুর্গ বা ধর্মীয় স্থানের অবশেষ হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবিকে ঘিরে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের আগ্রহও রয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের দিক থেকেও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। চারপাশে গ্রামীণ পরিবেশ, সবুজ গাছপালা এবং খোলা মাঠের কারণে এখানে এক ধরনের শান্ত পরিবেশ বিরাজ করে।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে ইতিহাসের ছোঁয়া অনুভব করার জন্য অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এই স্থানটি ঐতিহ্যবাহী একটি চিহ্ন হিসেবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবি সাভার অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্যও এটি উপযোগী একটি স্থান।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে সাভার বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। গাবতলী থেকে সাভারগামী বাসে সহজেই সেখানে পৌঁছানো যায়।
সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে মজিদপুর এলাকায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা, রিকশা বা স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় লোকজনের কাছে রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবির অবস্থান জেনে সহজেই পৌঁছানো সম্ভব।
যা দেখবেন
রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবির প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল মাটির ঢিবি এবং ঐতিহাসিক পরিবেশ। ঢিবির চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পুরোনো ইট ও মাটির অবশেষ প্রাচীন স্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়া গ্রামীণ পরিবেশ, খোলা মাঠ এবং সবুজ গাছপালাও দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। ইতিহাসপ্রেমী মানুষের জন্য এটি একটি আগ্রহের স্থান।
কোথায় খাবেন
মজিদপুর এলাকায় ছোটখাটো স্থানীয় খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে ভাত, মাছ, ডাল ও ভর্তাসহ সাধারণ দেশি খাবার পাওয়া যায়। তবে ভালো মানের রেস্টুরেন্টের জন্য সাভার বাজার এলাকায় যেতে হয়।
সেখানে বিভিন্ন ধরনের দেশি খাবার, বিরিয়ানি ও ফাস্টফুডের দোকান পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবি সাধারণত একদিনের ভ্রমণের জন্য উপযোগী। তবে দূর থেকে এলে সাভার বাজার এলাকায় কিছু আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউসে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
এছাড়া ঢাকার গাবতলী বা মিরপুর এলাকাতেও বিভিন্ন হোটেলে থাকার সুযোগ রয়েছে।
প্রাচীন ইতিহাস, লোককথা এবং গ্রামীণ পরিবেশের সমন্বয়ে রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবি সাভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

