ঢাকার পল্টনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম মসজিদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম প্রখ্যাত ইসলামি স্থাপনা। ১৯৬০ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি মসজিদের নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং পল্টনের সাড়ে আট একর জায়গা বরাদ্দ করেন। দুই বছরের নির্মাণ প্রক্রিয়ার পর ১৯৬২ সালে মসজিদটি সম্পূর্ণ হয়।
মসজিদটি আট তলা বিশিষ্ট, যার নিচতলায় একটি মার্কেট কমপ্লেক্স রয়েছে। তৃতীয় তলায় নারীদের জন্য আলাদা স্থান বরাদ্দ রয়েছে, যা সুবিধাজনক ও নিরাপদ আধ্যাত্মিক পরিবেশ নিশ্চিত করে।
যেভাবে যাবেন
বায়তুল মোকাররম মসজিদ রাজধানীর কেন্দ্রে হওয়ায় যেকোনো এলাকায় থেকে সহজে পৌঁছানো যায়। ঢাকার যেকোনো রুট থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে সহজেই আসা সম্ভব।
মেট্রো রেল ব্যবহার করলে গুলশান ও শাহবাগ স্টেশন থেকে অল্প দূরত্বে মসজিদটি অবস্থিত। ব্যক্তিগত গাড়িতে আসলে পার্কিংয়ের সুবিধা আছে, তবে ব্যস্ত সময়ে ভিড় বেশি হয়।
মসজিদের আকর্ষণীয় দিকসমূহ
মসজিদের স্থাপত্য এবং ভেতরের বিন্যাস দর্শনীয়। মূল নামজের স্থান বিশাল এবং প্রশস্ত, যা একসাথে হাজারো মুসল্লিকে ধারণ করতে পারে।
মসজিদের চারপাশে যত্নসহকারে সাজানো বাগান এবং প্রশস্ত বারান্দা রয়েছে, যেখানে প্রার্থনার আগে বা পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যায়। তৃতীয় তলায় নারীদের জন্য নির্দিষ্ট অংশটি নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত।
নিচতলার মার্কেট কমপ্লেক্সে প্রার্থনা বা দর্শন শেষে খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা সম্ভব। এখানে স্থানীয় খাবারের ছোট ছোট স্টলও পাওয়া যায়, যা ভ্রমণকারীদের জন্য সহায়ক। মসজিদের স্থাপত্যে ইসলামী নকশা এবং আধুনিক ঢাকার ছোঁয়া মিলিয়ে রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে সৌন্দর্যের অনুভূতি জাগায়।
খাবারের জন্য
মসজিদ এলাকার আশেপাশে অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পল্টন ও তেজগাঁও রুটে কফি শপ ও স্থানীয় খাবারের স্টল সহজলভ্য। বিশেষ করে মসজিদের নিকটবর্তী রেস্টুরেন্টগুলোতে মসজিদ দর্শনের পর হালকা খাবার বা চায়ের ব্যবস্থা সহজ।
থাকবেন কোথায়
রাজধানীর কেন্দ্রস্থল হওয়ায় মসজিদের আশেপাশে হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। বুয়েট, শাহবাগ, গুলশান ও মিরপুর রুটের হোটেলগুলো শহরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় কম দূরে, যেখানে ভ্রমণকারীরা রাত্রীকালীন নিরাপদ এবং সুবিধাজনক অবস্থান পেতে পারেন।
মসজিদে ভ্রমণ করলে পোশাকের শৃঙ্খল এবং প্রার্থনার সময়ের সুশৃঙ্খল মানা গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার ও শুক্রবার ভীড় বেশি থাকে, তাই শান্ত পরিবেশে দর্শনের জন্য সপ্তাহের অন্যান্য দিনে আসা সুবিধাজনক।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ শুধু প্রার্থনার স্থান নয়; এটি ঢাকার অন্যতম প্রতীকী স্থাপত্য যা ধর্ম, সংস্কৃতি ও শহরের চিত্তাকর্ষক স্থাপত্যকৌশলের মিলনস্থল। ভ্রমণকারীরা এখানে এসে আধ্যাত্মিক শান্তি ও স্থাপত্যের সৌন্দর্য একসাথে অনুভব করতে পারেন।

