পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকার ঐতিহাসিক পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে দেশের প্রখ্যাত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ কলেজকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মূলত জগন্নাথ কলেজের সূচনা হয়েছিল পুরান ঢাকার শিক্ষাবিস্তারকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ অল্প সময়েই শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান পর্ব এবং স্বাধীন বাংলাদেশ—এই তিন সময়ের ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রতিষ্ঠান।
পরে উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় ২০০৫ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। নাম দেওয়া হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কলা, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পড়াশোনা করেন। শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এর প্রতিটি স্থাপনা বহন করে দীর্ঘ ইতিহাসের ছাপ। পুরান ঢাকার পুরনো স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় এখানে দেখা যায়।
ক্যাম্পাসের ভেতরে পুরোনো ভবনগুলোর পাশাপাশি নতুন একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও লাইব্রেরি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞানকেন্দ্র, যেখানে নানা বিষয়ের বই, গবেষণাপত্র ও সাময়িকী সংরক্ষিত আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের পরিবেশও পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের অংশ। কাছেই রয়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, শাঁখারীবাজার, চকবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক এলাকা। ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পুরান ঢাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী এই ক্যাম্পাসে আসেন। অনেকেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্য দেখতে এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশও ঘুরে দেখেন। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি এখনও দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান বা সদরঘাট এলাকায় এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায়। গুলিস্তান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় কয়েক মিনিটেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছানো সম্ভব।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকেও হেঁটে কয়েক মিনিটের পথ।
যা দেখবেন
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুরনো একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার দেখা যায়। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশপাশে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকা যেমন শাঁখারীবাজার, আর্মেনিয়ান চার্চ ও সদরঘাট নদীবন্দর ঘুরে দেখা যেতে পারে। এসব স্থান পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দেয়।
কোথায় খাবেন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পুরান ঢাকার নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান রয়েছে। চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় কাচ্চি বিরিয়ানি, কাবাব, নেহারি ও বিভিন্ন দেশি খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া গুলিস্তান এলাকাতেও বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
দূর থেকে এলে গুলিস্তান, মতিঝিল বা পুরান ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকা যেতে পারে। এসব এলাকায় মাঝারি মানের হোটেল থেকে শুরু করে স্বল্প খরচের আবাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখান থেকে সহজেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব।

