ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের কাছে অবস্থিত যমুনা ফিউচার পার্ক দেশের অন্যতম বৃহৎ শপিং মল ও বিনোদনকেন্দ্র। আধুনিক স্থাপত্য, বিশাল পরিসর এবং নানামুখী বিনোদনের সমন্বয়ে এটি রাজধানীর একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
২০০২ সালে যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড এই বিশাল কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে এটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক স্থাপনায় রূপ নেয়।
বহুতল বিশিষ্ট এই শপিং কমপ্লেক্সটি শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়; এটি এক ধরনের পূর্ণাঙ্গ নগর বিনোদন কেন্দ্র। এখানে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল, বিনোদন পার্ক এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশাল আয়তনের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি বা অবসর কাটাতে এখানে আসেন।
যমুনা ফিউচার পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর আধুনিক অবকাঠামো ও সুবিন্যস্ত অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। প্রশস্ত করিডর, উজ্জ্বল আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন তলায় সাজানো দোকানগুলো দর্শনার্থীদের জন্য একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, প্রসাধনী, বই, খেলনা এবং নানা ধরনের পণ্যের বিশাল সংগ্রহ এখানে পাওয়া যায়।
বিনোদনের ক্ষেত্রেও এই কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল, যেখানে নতুন দেশি-বিদেশি সিনেমা প্রদর্শিত হয়। এছাড়া শিশু ও পরিবারের জন্য রয়েছে ইনডোর গেমস ও বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা। অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গাটি বেছে নেন।
খাবারের ক্ষেত্রেও যমুনা ফিউচার পার্কে রয়েছে বৈচিত্র্য। ফুড কোর্টে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। ফাস্টফুড, কফি শপ, বেকারি এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের সমন্বয়ে এখানে একটি প্রাণবন্ত খাদ্যসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কেনাকাটা বা সিনেমা দেখার ফাঁকে দর্শনার্থীরা সহজেই খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন।
ঢাকার দ্রুত পরিবর্তনশীল নগরজীবনের একটি প্রতীক হিসেবেও যমুনা ফিউচার পার্ককে দেখা হয়। আধুনিক জীবনধারা, ভোক্তা সংস্কৃতি এবং বিনোদনের নতুন ধারা এখানে একসঙ্গে উপস্থিত। ফলে এটি শুধু একটি শপিং মল নয়, বরং রাজধানীর সামাজিক ও বিনোদন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে কুড়িল বিশ্বরোড বা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দিকে চলাচলকারী বাসে করে যমুনা ফিউচার পার্কে পৌঁছানো যায়।
কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় কয়েক মিনিটেই মলের প্রধান প্রবেশপথে যাওয়া সম্ভব। বিমানবন্দর সড়ক থেকেও সরাসরি এই স্থানে পৌঁছানো যায়।
যা দেখবেন
মলের ভেতরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্র্যান্ডের শোরুম, মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল এবং বড় ফুড কোর্ট রয়েছে। এছাড়া ইনডোর গেমস জোন, শিশুদের বিনোদন এলাকা এবং আধুনিক সাজসজ্জার বিশাল করিডর ঘুরে দেখার মতো। বিভিন্ন তলায় সাজানো দোকান ও আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
কোথায় খাবেন
যমুনা ফিউচার পার্কের ফুড কোর্টে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া মলের ভেতরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কফি শপ ও ফাস্টফুড আউটলেট রয়েছে, যেখানে সহজেই খাবারের ব্যবস্থা করা যায়।
কোথায় থাকবেন
দূর থেকে এলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা বা গুলশানের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকা যেতে পারে। এসব এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেখান থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে সহজেই যাওয়া যায়।

