বিশ্বসংগীত অঙ্গনের আলোচিত ব্রিটিশ র্যাপার সেন্ট্রাল সি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন সম্প্রতি। এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক অনলাইন লাইভস্ট্রিমে আনুষ্ঠানিকভাবে কালিমা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আখিল’ রাখার ঘোষণা দেন। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই শিল্পীর ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক এই সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ার এবং ভক্তদের মধ্যে নতুন এক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
তাঁর লাইভস্ট্রিমটি অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর PlaqueBoyMax-এর সঙ্গে। সেখানেই সেন্ট্রাল সি জানান, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে ‘আখিল’ নামেই পরিচিত হতে চান।
ইসলামিক ইনফরমেশনভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ বছর বয়সী এই শিল্পীর জন্মনাম ওকলি নীল সিজার-সু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে এই ঘোষণা অনেক ভক্তের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।
সেন্ট্রাল সি ২০১৪ সালে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করলেও তার প্রকৃত উত্থান ঘটে ২০২১ সালের পর থেকে। ইউকে র্যাপ দৃশ্যে দ্রুতই প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে জায়গা করে নেন এই তরুণ। ‘Sprinter’ গান দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া এই র্যাপার প্রথম ব্রিটিশ র্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড গড়েন।
ড্রেক ও জে. কোলের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। তাঁর সংগীতে শহুরে জীবন, দ্রুত সাফল্য, মানসিক চাপ ও আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব বারবার উঠে এসেছে।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের উত্থান সম্পর্কে সি বলেছিলেন, সবকিছু এত দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে তা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। এই বক্তব্যের মধ্যেই অনেক বিশ্লেষক তাঁর সাম্প্রতিক আধ্যাত্মিক সিদ্ধান্তের একটি যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। দ্রুত সাফল্যের ভিড়ে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে নেওয়ার তাগিদ থেকেই এই পরিবর্তন ঘটেছে, এমন ব্যাখ্যাও সামনে আনছেন কেউ কেউ।
সির ইসলাম গ্রহণের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা তাঁকে শুভকামনা জানান। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকেও তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়। অনেকেই এটিকে একজন বৈশ্বিক শিল্পীর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মিক অনুসন্ধানের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তবে এই রূপান্তর তার সংগীতজীবনে কী প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টিশীল প্রকাশ, লিরিক্স ও থিমে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে ভক্ত ও সমালোচকদের মাঝে ছড়িয়েছে কৌতূহল।
বিশেষ করে, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আধ্যাত্মিক পরিবর্তন বহু শিল্পীসত্তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেই আঙ্গিক থেকে, সেন্ট্রাল সি থেকে ‘আখিল’ হিসেবে এই নাম পরিবর্তন কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং একটি পরিচয় ও বিশ্বাসগত রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেশাদার জীবনের ব্যস্ততা, খ্যাতি ও চাপের মাঝেও একজন শিল্পীর আত্মিক অনুসন্ধান যে চলমান থাকে, এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতে ‘আখিল’ নামের এই শিল্পী কোন পথে এগোবেন, তার সংগীত কীভাবে নতুন পরিচয়ের ছাপ বহন করবে—সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক সংগীতপ্রেমীদের নজর।
#আরএ

