ভারতের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও শর্তের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় এর বাণিজ্য ঘাটতি সরাসরি জাতীয় রাজস্ব আয় ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর আঘাত হানছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন ব্যবসায়ী এবং হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন, যা সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টন। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো, বর্তমানে তা দিনে ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।
পেছনের ঘটনা:২০২৫ সালের মে মাস থেকে ভারত সরকার গার্মেন্টস, তৈরি পোশাক, তুলা, প্লাস্টিক ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর স্থলপথে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীতে জুন ও আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, যা দুই দেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংখ্যায়:
- চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে ৩,০৩৮টি ট্রাক প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৫৩টি ট্রাক।
- গত দুই অর্থবছরের ব্যবধানে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন থেকে কমে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।
এরপর কী: ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নেপাল ও ভুটানের সাথে ট্রানজিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিকল্প বাজার খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংক্ষেপে: রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুদেশের আরোপিত বিধিনিষেধের বেড়াজালে বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্য এখন ধুঁকছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংকট নিরসন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

