ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই সগর্বে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসবেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং তার নিজের দেশে ফেরা নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যে তার এই বক্তব্য দলের নেতাকর্মীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বিএনপি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছে বারবার আর্জি জানানো হলেও, নয়াদিল্লি এখনও এই বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এই নীরবতার মাঝেই শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অনড় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
মূল খবর: শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, অতীতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারেনি, বরং দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের কোটি সমর্থক এবং লাখো কর্মী দেশে রয়ে গেছেন এবং তারা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অপশাসনের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নীরবে নিজেদের পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও সংগঠিত হয়েই তারা দেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করবে।
পর্দার আড়ালে যা ঘটছে: দলের অনেক নেতা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও, হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে তারা কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি। চরম বৈরী পরিবেশে কেবল প্রাণ বাঁচাতেই তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরত এই নেতারা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসলেই তারা দেশে ফিরবেন।
সংখ্যার হিসেবে: শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার রাজনৈতিক জীবনে তাকে অন্তত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রায় দেড় লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে ন্যূনতম আইনি অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
শেষ কথা: তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা ‘ভারত-তোষণ’ এবং ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গঙ্গা পানি চুক্তি, আন্তর্জাতিক আদালতে ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা জয় এবং ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বিএনপি একটিও দেশবিরোধী চুক্তির প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সর্বদা বিদেশনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।
আওয়ামী লীগ আমলের প্রধান ৪টি কূটনৈতিক সাফল্য
১. গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি: ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই ভারতের সাথে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর।
২. সমুদ্রসীমা জয়: ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত করা।
৩. স্থলসীমান্ত চুক্তি: ২০১৫ সালে ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী ঐতিহাসিক সমাধান।
৪. মৈত্রী পাইপলাইন: বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়েও যা বাংলাদেশের জন্য ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে কাজ করছে।

