চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নে ভরাট হয়ে যাওয়া পদ্ধ খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছিল। এর ফলে স্থানীয় কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে নিয়মিত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো, যা জনজীবন ও কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছিল।
- খালটি সচল হওয়ায় এখন পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
সামগ্রিক চিত্র: আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে অবস্থিত পদ্ধ বিল থেকে শুরু হয়ে খালটি হাতিয়ার খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো, যা এখন পুনঃখননের ফলে দূর হয়েছে।
- এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর খালটির অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, “খালটি সচল রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কেউ যেন খালে ময়লা-আবর্জনা বা বর্জ্য না ফেলেন এবং অবৈধভাবে দখল বা ভরাটের চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অন্তরালে যা আছে: খালটি পুনরুদ্ধার হলেও এর দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খালটি সচল রাখতে হলে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে এই খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখতে।
এরপর কী: পরিবেশবিদরা খালটির সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে এখন খালটি যেন পুনরায় দখল বা দূষণের কবলে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয়দের খাল রক্ষায় সম্পৃক্ত করা হবে পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য।
সারকথা: পদ্ধ খাল পুনরুদ্ধার কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খালটি সচল রাখার দায়িত্ব এখন স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করছে।

