মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন, যা চিনিকলটির উৎপাদন ব্যবস্থা ও শ্রমিক অসন্তোষের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিশেষ সুবিধা পেলেও শ্রমিকরা বঞ্চিত থাকায় এই আন্দোলন এখন একটি বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
- আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তারা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।
অন্তরালে যা আছে: শ্রমিকদের প্রধান ক্ষোভের কারণ হলো তাদের দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া এবং স্থায়ী নিয়োগের অভাব। মৌসুমভিত্তিক শ্রমিকরা বছরের অধিকাংশ সময় বেকার থাকলেও তাদের অভিজ্ঞতার কোনো স্বীকৃতি মিলছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে চিনিকলের দক্ষ জনবল তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরপর কী: শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার ঘোষিত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধার আদলে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সারকথা: মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, মৌসুমি শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ এবং পদোন্নতির মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ার দাবিতে শ্রমিকদের এই আন্দোলন রাজশাহী চিনিকলের বর্তমান প্রশাসনিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

