১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি গাদাগাদি করে বসবাস করছেন, যা জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারটি বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা বন্দিদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক কারা ব্যবস্থাপনার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
- জরাজীর্ণ ভবন ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষাকালে বন্দিদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংখ্যায়: কারাগারটির মোট ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪৬০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে ২ হাজার ৫৩৪ জন বন্দি রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামগ্রিক চিত্র: তিনটি ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কারা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জেল সুপার আল মামুন বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে ‘আমার শপ’, লাইব্রেরি সংস্কার এবং কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
ইতিবাচক দিক: বন্দিদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে খেলাধুলা, সংগীতচর্চা এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শিশু পার্ক নির্মাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে কারাগারের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
এরপর কী: কারা কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দ্রুত জনবল নিয়োগ অপরিহার্য। বন্দিদের সংশোধন ও সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

